Subscribe

অক্ষরমালা

তথাগত, হাসছেন?

দেহ গুড়িয়ে দিয়েছো, অন্তর পুড়ে খাক্
প্রতিমার আসনে তোমাকে বসিয়ে,
এক হাতে কাঁচি, অন্য হাতে ভাঙা
কাঁচ নিয়ে দন্ডায়মান সময়ের নাপিত।

‘সভ্যতার চুল কাটতে কাটতে হয়রান আমি!’

মাস মাস সেলুনে যে যাস–
বউ জানে–যায় শুধু খর্চা বাড়াতে…
নাকি, মুখোমুখি রাখা দু’টি আয়নায়
নিজের সংখ্যা অসীম দেখেই পয়সা উশুল?

‘এ জাতির কী-বা হবে? হলে, আর কবে?’

আমি হব পিতা; ফাদার অব বীরবাহু-
চলি যবে গেলা যমপুরে, বড্ড অকালে…

জানি জানি, টিভিক্যাম দেখে কে
রাখে গুটিয়ে কণ্ঠ? মুখদন্তবিকাশবিহীন–
বল ব্যাটা সাচ্চা বাত, ‘তুই না বাঙালী মুসলমান?’

বেডরুমে ডেডবডি, ওয়াইফ জানে
আমি গেছি মার্কেটে। সেলফোনে কল করো–
‘এইবার বলো সোনা, এখন আমি সেফজোনে!
কই? আমি আছি সেলুনে।
কিছুক্ষণ বাদে, ফেসবুকে আপলোড হব–
মাই নিউ হেয়ারকাট।’

‘ আয় শালা, আজ তোর চুল কাটি মুন্ডুসমেত!’

কাট্-কাট্-কাট্ ব’লে-
দৌড়ে আসেন পরীদের চালক।
আচানক ধমক- ‘এগেন, রং ডায়ালগ!
অ্যাই ব্যাটা নাপিত, এতোবার বল্ছি কানে যায় না?
স্টুপিড! এই ডায়লগ বলবেন– তথাগত।’

‘ তাই ত বলছি স্যার! বুঝতে পারছিনা ভুলটা কার?’

‘ ইয়ার্কি পেয়েছিস?…এ্যঁ আমার লগে ছন্দমারাও
এ্যাই! অ্যাসিস্টেন্ট বোকাচোদাগুলা-
কে অছিস কোথায়? কাজের বেলায় যদি একটারেও কাছে পাই!
এক্ষণ বাইর কর এই নাপিতের পো’রে–
সাহস কত! ডাইরেক্টরের লগে নাপ্তালি করে!

এই ফিল্মে জানস কে করতাছে তথাগত? লিডরোল?
যার নামে টাইটেল!
ক্ষিপ্তপদ- টলটলায়মান, নারীগণের সঙ্গসুখ
করে বিসর্জন আসছেন তিনি, হাতে অসমাপ্ত বোতল।
আসছেন তথাকথিত, বিদেশখ্যাত হিরো আসছেন-
আসছেন তথাগত!
সবাই উৎকন্ঠায়; কী-না-কী হয়!
বদমেজাজে তিনি যে আবার দেশখ্যাত…

সময়-ভূমিকা’র নাপিত বেচারা ভয়ে জড়োসড়ো–
ভয়ে কাঁপছে সময়, হাঁটু কাঁপছে শীল তথাগতের,
দেশ কাঁপছে অতিথি-অপমানে,
ক্রোধে কাঁপছে যৌথ-প্রোযোজনার ‘ওম্ তথাগত।’

নায়ক তথাগতের সামনে ত্রস্ত সময়,
হাঁটু ভাঁজ ক’রে করজোড়ে ক্ষমা ভিক্ষা চায়-
আমার কোন দোষ নাই স্যার!
নিজের দুই গালে চড় কষে নিজেই অবিরত,
পাগলের মতো। কণ্ঠে বিলাপ:
’সব পোড়াইয়া দিছে গো স্যার, দেবতা-দেবালয়,
মন্দিরের চৌকাঠ, ফুলের চারাগাছ, সব। সব। ব্যাবাকতা…
মন্দিরের পশ্চিমের ঘরটাই ছিলো আমার, খেউড়ির দোকান
নামে আমি তথাগত শীল। সনাতন। পিতা বুদ্ধ শীল।
যে আমারে পাঁচশ’ দিবো বইলা আনছেনগো ভাই,
ভাইরে একটু সামনে আসেন, দয়া কইরা কন-
আমিই ঠিক তথাগত কিনা?
বাঁচান আমারে! ছাইড়া দেনগো বাপেরা, আমার
টাকা লাগবো নাগো, আমারে যাইতে দেন ভাই

ক্লাইম্যাক্স সিনের নির্মাণাধীন সেটে
পদ্মের ওপর বসে মিটিমিটি হাসছেন, বুদ্ধ তথাগত!
০৮.১০.১২

ডায়মন্ড

বিনয়ের কয়লার ভিতর
জন্মেছে এক অহংকারের ফুল।
আদর ক’রে তাকে অঙ্গে জড়াও,
অন্যের চোখে ঈর্ষা ছড়াও।
০৮.১০.১২


হিংসা

হিংসুক!
হিংসুক!
হিংসুক!
আমি হিংসুক।
কেন, তোমার তাতে হিংসা হয়?
০৮.১০.১২

ট্রায়াল রুমের আয়নায়

ট্রায়াল ভার্সন করতে করতে
ভুলে গেছি–
কী যেন বিষয়টা!
০৮.১০.১২

ফুটোর ফুটানি

সোনামুখী সুঁই আর ফুটো ছাড়া এক সূক্ষ শলাকা
প্রথমটার কাজ সেলাইফোরাই, প্রয়োজনে রিফু করা–
অন্যটার কাজ ভেবে ভেবে বের করুন,
আর জেনে রাখুন, ফুটাবিহীন শলাকার
সবকটি কাজ সমান তালে করবার
পরই সোনামুখী– সোনামুখী সুঁই হয়ে ওঠে।
৮.১০.১২

বন্ধুতা

বন্ধুত্ব রচনা ক’রে
ঘরে এসে বেঘোরে ঘুমাও?
তাহলে কবর রচনা করবার দায়িত্বটুকু
তার হাতেই তুলে দাও।
০৮.১০.১২

শাদা কাগজ

শাদা কাগজ দেখলে কেউ গুছিয়ে রাখে
কেউ আঁচড় কাটে, কেউ ছাপে নিজমুখ।
আমি কী করবো? বর্ষার পানি জমেছে,
বাড়ির পাশের রাস্তায়। ‘কী মুশকিল!
নৌকা বানাতে ইচ্ছে হচ্ছে কিন্তু
ভাঁজগুলো যে সব কীভাবে করতাম
ওই ছোটবেলায়!’

‘ধুর ছাই! স্কুল-ফেরত একটা
বাচ্চাও ত দেখছি না। আজকাল বর্ষায়,
স্কুল ছুটির নোটিশ কী টাঙায়?’
হঠাৎ হাওয়া বয়। হাত ফসকে কাগজটা যায় উড়ে
সুতাকাটা ঘুড়ির মতো, ওই উঁচু ফ্ল্যাটবাড়িটার কাছে
ফের গোত্তা খেয়ে নামছে, ভাসছে দুলছে উড়ছে;
শাদা কাগজটা বৃষ্টির গান গাইছে!
০৮.১০.১২

ভয়

ভয় এক নিষিদ্ধ আমোদ,
যার সঙ্গমে জন্ম নেয়–
একেকটি মৃত্যুর পুতুল।
০৯.১০.১২

জ্বর

জ্বর, এক প্রেয়সীর নাম–
সে চায়নি কিছুই।
শুধুই জড়িয়ে থাকা, সবটা জুড়ে।
তবু কেন তাকে তাড়াতে চাও?
ওঝা ডেকে এনে জলপেটা করো–
এতো অপমানেও সে ছেড়ে যায়না ত!
০৯.১০.১২

আগুন

শরীরে শরীর ঘষে
আগুন জ্বালাই, শীতাতুর রাতে।
ধুশ শালা! সিগারেটের
প্যাকেট রাখলাম কই!
০৯.১০.১২

বিস্মৃতি

পিঠ চুলকায়।
হাতটা পিছনে বাড়িয়ে দেই।
আঙুলে তীব্র খোঁচা– উফ্!
আঙুল চুইয়ে টুপটাপ রক্তের বৃষ্টি–
ভেসে যাচ্ছে ফ্লোর।
তাইতো! বেসামাল ভুলে বসে আছি–
কতোকাল তীরভর্তি তূণীর লুকিয়ে রেখেছি পিঠে,
চোখের আড়ালে; পাছে কাউকে রক্তাক্ত করে ফেলি!
ফিরে পাই শৈশবে হারিয়ে যাওয়া ধনুক।
টঙ্কার দিয়ে বলে–
‘ কতোকাল টানটান; পিপাসার্ত
চেয়ে আছি– অঙ্গে জড়িয়ে নে,
তূণীরের একটা তীর খরচ করে দেখ
লক্ষভেদের এই উৎসবে; কথা দিচ্ছি–
তোকে আমি ঠকাবো না!’
০৯.১০.১২

ঋত্বিক সাধু’র সম্পত্তি
উৎসর্গ : ঋত্বিক কুমার ঘটক

একদিন অভিসম্পাতের জন্যে হলেও
ডাক পড়বে আমার।
মৃত বাবাকে শালা ব’লে গালি দিবি–
‘ব্যাটা জোচ্চোর মাতাল! মদটাকেও
হালাল করে নিয়েছিলো– আমার গায়ে
ঢ্যাঙা ঋত্বিকের ফেলে দেওয়া জোব্বাটা
চাপিয়ে দিয়ে।’
দূর থেকে শুনতে পাই সাধুর মাতাল কণ্ঠ।
‘ঢাল্ ব্যাটা আরেক গ্লাস, ফকিনিড়বর
বাচ্চার নামে!– শালা, ছদ্মবেশী
বাদশারপুত, নিজে ন্যাংটা হয়ে এতো…’
এক চুমুকে সবটা সাবাড়।

হ্বিক্কার ধ্বনি।
‘এতো ভার আমায় ক্যান দিলিরে বাবা! ওয়াক্…ও
ও বাবা… বাবা, তুই এতো স্বার্থপর হলি কী ক’রে? এ্যঁ–
নিজের গায়ে না চাপিয়ে, গছিয়ে দিলি আমার গায়ে?’
০৯.১০.১২

গিফ্ট

হায় কাল! এইদেশে, ভিখারীর দিকে
ছুঁড়ে দেয়া সিকি-আধুলির মতো লোকে সুনাম কুড়ায়।
আর দুর্নাম? সে ত প্রীতি-উপহার।
এব্যাপারে আমাদের সুনাম রয়েছে।
১০.১০.১২

আয়না

অপরের চোখে চেয়ে চেয়ে নিজেকে সাজিয়ে
নেবো বলে– কোনদিন আয়নার অভাব বোধ
করিনি। কিন্তু হায়, চোখে চোখ রেখে অন্তর
চিনে নেবো তেমন শিক্ষা যে–
নাই আমার। সুচতুর, উঁচুশিক্ষিত চোখেরা
আমার কাছে কী কৌশলেই না গোপন
করতে পেরেছেন তাদের বিদ্যায়তনের
নাম-ঠিকানা, গুরু, গুরুদক্ষিণা, কারিকুলাম।
আন্দাজ করি, দৃষ্টিপাতের এই করণ-কৌশল
গোপন রাখাই রীতি। নইলে যে
ঝন্ঝনিয়ে উঠবে চাহ্নির তরবারি।
ভাবছি, সকলের অগোচরে দু’পয়সা
জমিয়ে আয়না কিনি। কিন্তু। আত্মাকে সঙ্কুচিত
ক’রে যে সঞ্চয়– তার চেয়ে কেড়ে নেয়াই কী
সমীচিন নয়?
এইতো, এখন বোঝা যাচ্ছে– এই ইস্কুলের
কারিকুলাম তৈরী হচ্ছে।
ইহা, প্রথম পাঠ।
১১.১০.১২

খেলার প্রতিভা

খেলা তবে খেলা-খেলা নয়!
ছেলে, প্রতিযোগিতায় নাম লেখালে
খেলার অনুশাসন মানতে হয়!
ডিস্কোয়ালিফায়েড ছেলেটি নতমুখে
শুনছিল, আর মনে মনে ভাবছিল–
‘আমি ত শুধু চেয়েছিলাম, সামনে বা পিছনে
কে কে আছে– সেই চিন্তা এড়িয়ে একমনে
দৌড়াবো, গন্তব্যে!

ছেলেটি করেছিল কী?
বৃত্তাকার মাঠে নির্দিষ্ট সীমানায়, দাগ থেকে
শুরু করে পুনরায় ওই দাগে ফিরে
আসবার প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিল।
হুইসেল শুনে অন্যদের উল্টোমুখে দিয়েছিল
দৌড়!

বোকা ছেলের মাথায় এখনও ঢুকছে না–
প্রতিযোগিতা হচ্ছে অন্যকে পেরিয়ে যাওয়ার ফুর্তি,
তা হোক নিজের বেগে কিংবা অন্যের বিয়োগে!
১১.১০.১২

Copyright © 2019 All right ® reserverd by Nurul Alam Atique Art: Sabyasachi Mistry, Design: Rainy, Arrangement: Nahidur Rahim Chowdhury Ananda, Developed by eMythMakers.com